কার্ডে পরিশোধ বাস ভাড়া

টিকিটের জন্য আর লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা কন্ট্রাকটারের সঙ্গে বাস ভাড়া নিয়ে আর গালাগালি কিংবা মারামারির মতো ঘটনা ঘটবে না।  মতিঝিল থেকে আবদুল্লাহপুর রুটের ৭০০ থেকে ৮০০ যাত্রী এখন কার্ডে ভাড়া শোধ করেন। সম্প্রতি মতিঝিল-আবদুল্লাহপুর রুটের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বিআরটিসি ও ওমামা ইন্টারন্যাশনালের বাসে এই সেবা চালু হয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) কার্ডটি তৈরি করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে র‍্যাপিড পাস।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে যাত্রীরা টিকিটের জন্য লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে থাকার ঝক্কি থেকে মুক্তি পাবেন। এতে সময় বাঁচার পাশাপাশি ভাড়ার জন্য নগদ টাকা রাখারও দরকার হবে না।

ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, গণপরিবহনব্যবস্থায় সমন্বিত ই-টিকিটিং পদ্ধতি চালুর লক্ষ্যে ২০১৪ সালে সরকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। এই প্রকল্পের আওতায় র‍্যাপিড পাস সেবা চালু করা হয়। এতে আর্থিক সহায়তা দেয় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

4

প্রকল্পটির পরিচালক ও ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মো. জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, এটি ডেবিট কার্ডের মতো অত্যাধুনিক সার্কিট নির্ভর কার্ড। ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক ও বিআরটিসির নির্ধারিত কাউন্টার থেকে এই কার্ড কেনা যাবে ও কার্ডে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করা যাবে। তিনি বলেন, বিআরটিসি ও ওমামার পাশাপাশি ‘ঢাকা চাকা’ বাস সার্ভিসেও র‍্যাপিড পাস চালুর ব্যাপারে কাজ চলছে। অন্যান্য বাসে এই সেবা চালু হবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেসব বাসের স্টপেজ বেশি, সেসব বাসে এই সেবা চালু করা কষ্টকর। তবে যেসব বাসের (শীতাতপনিয়ন্ত্রিত নয়) স্টপেজ কম, সেসব বাসে এই সেবা চালু করা যেতে পারে

ব্যবহারের পদ্ধতি:

কার্ডটি ব্যবহারের জন্য বাসে চালকের পাশে একটি যন্ত্র বসানো হয়। কার্ডধারী যাত্রী বাসে ওঠার সময় একবার এবং বাস থেকে নামার সময় একবার যন্ত্রের নির্দিষ্ট স্থানে কার্ডটি স্পর্শ করাবেন। বাস থেকে নামার সময় যন্ত্রে কার্ড স্পর্শ করানোর পর যন্ত্র থেকে রসিদ বের হবে। এতে ভাড়া ও কার্ডের ব্যালেন্স উল্লেখ করা থাকবে।

 

কোথায় পাবেন র‍্যাপিড পাস কার্ড:

র‍্যাপিড পাস প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের মতিঝিলের লোকাল শাখা, বৈদেশিক বিনিময় শাখা, এলিফ্যান্ট রোড, বনানী, উত্তরা ও সোনারগাঁ-জনপথ শাখা এবং বিআরটিসির উত্তরা হাউস বিল্ডিং, বনানী, শাহবাগ ও মতিঝিল স্টপেজে র‍্যাপিড পাস কার্ড কেনা ও রিচার্জ করা যাবে। কার্ডের প্রাথমিক মূল্য ৪০০ টাকা। এর মধ্যে ২০০ টাকা রিচার্জ হিসেবে কার্ডে জমা থাকবে। ব্যবহারকারীরা একবার সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা ও সর্বনিম্ন ১০০ টাকা রিচার্জ করতে পারবেন। আবার ব্যবহারের সময় কার্ডে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলেও একবার কার্ডটি ব্যবহার করা যাবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী রিচার্জ থেকে টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হবে।

বিআরটিসির জোয়ার সাহারা বাস ডিপোর ব্যবস্থাপক মফিজ উদ্দিন জানান, মতিঝিল থেকে আবদুল্লাহপুর রুটের সব শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসে এই সেবা চালু আছে। যাত্রীরা সেবাটি খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে।

জাকির হোসেন মজুমদার জানান, ২০১৮ সালের জুনে চলমান প্রকল্পের প্রথম ধাপ শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে রেলপথ, নৌপথ ও টোল প্লাজায় র‍্যাপিড পাস সেবা চালুর পরিকল্পনা আছে।

র‍্যাপিড পাসসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য www.rapidpass.com.bd এই ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment