আদালতের রায় ঘোষনার খবরে এতিমখানার কর্মকর্তা কর্মচারী ও এতিমখানার নিবাসীদের মাঝে আনন্দের বন্যা

বহুল আলোচিত মামলায় কনকর্ড কনডোমিনিয়াম লিমিটেড কে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা জায়গায় করা অবৈধ স্থাপনা এতিমখানাকে বুঝিয়ে দেয়ার আগের রায় বহাল রেখে কনকর্ডের রিভিউ খারিজ করে দিয়েছে মহামান্য আদালত।

এর ফলে ৪০ কাঠার উপর নির্মিত ১৮ তলা ভবনের দখল নিতে এতিমখানার আর কোনো বাধা থাকল না। বৃহস্পতিবার ৯ জুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের পূর্নাঙ্গ বেন্চ এই আদেশ দেন।

এতিমখানার বর্তমান প্রশাসক ( উপসচিব) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরীর বলিষ্ঠ পদক্ষেপে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে। গত বছর ৭ জুন এতিমখানার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার‌ পর থেকে এতিমখানার প্রভূত উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি আলোচ্য মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষে স্বনামধন্য বিজ্ঞ আইনজীবি নিয়োগের পদক্ষেপ গ্রহন‌ করেন তিনি।

আজ মহামান্য আদালতের রায় ঘোষনার খবরে এতিমখানার কর্মকর্তা কর্মচারী ও এতিমখানার নিবাসীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

এতিমখানা সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৩ সনে স্যার সলিমুল্লাহ্ মুসলিম এতিমখানার কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও তৎসময়ের সরকারের মহিলা এম.পি বেগম সামছুন্নাহার, সামছুন্নাহারের ছেলে ও কমিটির সহ-সভাপতি সানী এবং সাবেক সেক্রেটারী জি.এ.খান সহ উক্ত কমিটির সকল সদস্য মিলে বিগত ২০০৪ সনে এতিমখানার ৮.৫ বিঘা সম্পত্তি কনকর্ড কনডোমিনিয়াম লিঃ (ডেভেলপার) সাথে যৌথ উন্নয়নের নামে অসম, জালিয়াতি ও বেআইনি চুক্তি সম্পাদন করে।

উক্ত ৮.৫ বিঘা জমির মধ্যে ২ বিঘা (৪০ চল্লিশ) কাঠা জমির উপর ডেভেলপার কোম্পানী গত ২০১২ সালে একটি ১৮ তলা বিশিষ্ট আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মান সম্পন্ন করেন যার অনুপাত এতিমখানা পাবে ১২%, ডেভেলপার ৮৮%, এবং সাইনিং মানি বাবদ এতিমখানাকে প্রদান করেন মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা ।

তৎকালীন কমিটির সদস্যগণ যোগসাজশের মাধ্যমে, আজীবন সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ও লীজের শর্তসমূহকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, এতিমখানার গঠনতন্ত্রের বিধি ভঙ্গ করে, এতিমদের স্বার্থ ক্ষুন্ন করে, নিজেদের লাভের উদ্দেশ্যে এতিমখানার জমি বিক্রি করেছেন।

এসকল কর্মকান্ডের দায়ভার ২০০৩ সালের কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ২০০৯ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির উপর বর্তায় কারন কার্যনির্বাহী কমিটিকে এতিমখানার গঠনতন্ত্র লীজকৃত সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করার কোনো ক্ষমতা প্রদান করেননি।

কার্যনির্বাহী কমিটির ও ডেভেলপার কোম্পানীর প্রতারণার জালে এতিমদের ঠকিয়ে উভয়ই লাভবান হয়েছে।  এসকল জালিয়াতি, এতিমদের স্বার্থক্ষুন্ন, বেআইনী ও অসম চুক্তির বিরুদ্ধে গত ১৩/০২/২০১৩ ইং তারিখে এতিমখানার ৪ (চার) জন ছাত্র মোঃ মোরসালীন খাঁন, মোঃ সেলামত খাঁ, মোঃ ইফসুফ মোল্লা, মোঃ রহিম মিয়া, বাদী হয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন নং- ১৯৪০/২০১৩ দায়ের করিলে, শুনানী অন্তে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বিগত ১৭.০৯.২০১৫ ইং তারিখে নিম্নোক্ত ৪ টি আদেশ প্রদান করেন ঃ

ক. এতিমখানার জায়গা নিয়ে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অবৈধ ঘোষনা পূর্বক চুক্তিসমূহ বাতিল করা হলো।

খ. জমির উপর নির্মিত ভবনসহ জমি এতিমখানার অনুকূলে বাজিয়াপ্ত ঘোষনা করেন যা শুধুমাত্র এতিমদের উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হবে।

গ. বিবাদী নং ১-১২ অতিদ্রুত এতিমখানায় একটি ম্যানেজিং কমিটি গঠণ করবেন।

ঘ. বিবাদী নং ৭ (জেলা প্রশাসক, ঢাকা) বিবাদী নং ১৫, ১৬, ১৭ এবং প্রয়োজনে অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

উক্ত রায়ের বিপক্ষে বিবাদী পক্ষ (ডেভেলপার কোম্পানী ও সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটি) আপীল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল নং- ১৩৩/২০১৭, ৬৩৩/১৭, ৫৩০/১৭ দায়ের করেন এবং মহামান্য আপীল বিভাগ বিগত ১২.০৩.২০১৮ ইং তারিখে আপীল ৩ টি খারিজ করে দেন।

বিবাদী পক্ষগন মহামান্য আপীল বিভাগে সিভিল রিভিউ পিটিশন ফর লিভ টু আপীল নং- ৩২/২০১৯, ৩৫৭/২০২১ দায়ের করেন। মহামান্য আপীল বিভাগে সিভিল রিভিউ পিটিশন ফর লিভ টু আপীলে রেসপন্ডেট ১. মোঃ মোরসালীন খান, রেসপন্ডেট ২. মোঃ সেলামত খাঁ এর পক্ষে পাওয়ার অব এ্যাটর্নী ছিলেন মোঃ হারুন অর রশীদ, রেসপন্ডেট ৩. মোঃ ইউসুফ মোল্লা (নিজ) এবং রেসপন্ডেট ১৬ এর পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক মোঃ জাকির হোসেন শাহীন। এবং রেসপন্ডেটদের পক্ষে আইনজীবি হিসেবে ছিলেন সিনিয়র এডভোকেট ব্যারিস্টার আক্তার ইমাম, সাবেক বিচারপতি ও সিনিয়র এডভোকেট ফরিদ আহমেদ, এডভোকেট মনজিল মোরশেদ, এডভোকেট মশিউজ্জামান, এডভোকেট কামাল হোসেন এবং সরকারের পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত এ্যাটর্নী জেনারেল জনাব ব্যারিষ্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাছান চৌধুরী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button