গ্রামবাসীর ইটপাটকেলের আঘাতে এসিল্যান্ড আহত

ইসরাইল হোসেন বাবু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

শাহজাদপুরে খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরীর উদ্যোগ নেয়ায় ফুঁসে উঠেছে গ্রামবাসী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নিভৃত পল্লীতে শতবর্ষী খেলার মাঠ ভরাট করে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরীর উদ্যোগ নেওয়ায় ফুঁসে উঠেছে গ্রামবাসী। তারা সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করায় ইউএনওকে ওই এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেনি। এসময় গ্রামবাসী ইটপাটকেলের আঘাতে এসিল্যান্ড আহত হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইউএনও’র সরকারী গাড়ি। রবিবার সকালে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের হলদিগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সহকারী পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) হাসিবুল ইসলাম জানান, উপজেলার বলদিপাড়া ও হলদিগ্রামের দুটি খেলার মাঠের যে কোন একটি মাঠে মাটি ভরাট করে সেখানে আশ্রয়ন প্রকল্প তৈরীর পরিকল্পনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সকালে ইউএনও ওই এলাকা পরিদর্শনের জন্য গেলে গ্রামের শত শত নারী ও শিশুরা প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেন। তারা হলদিপাড়া ব্রীজের কাছে সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে ও বাঁশ বেধে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরী করেন। এসময় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ছোঁড়া ইটপাটকেলের আঘাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমানের মাথা ফেটে যায় এবং ইউএনও’র সরকারী গাড়ির একাংশের কাঁচ ভেঙ্গে গেছে। যে কারনে ইউএনওকে আশ্রয়নের প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন না করেই ফিরে আসতে হয়েছে।

 

সহকারী পুলিশ সুপার আরো বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহত এসিল্যান্ডকে প্রথমে পোতাজিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মাথা পরীক্ষার জন্য তাকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বিক্ষুব্ধরা বলেন, আশপাশের ৬টি গ্রামের একমাত্র শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী এই খেলার মাঠে আমাদের বাপ-দাদাদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। জড়িয়ে আছে আমাদের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের রঙিন সময়। এই মাঠ থেকে দেশের অনেক গুণি খেলোয়াড় তৈরী হয়েছে। সরকার আশ্রয়ন প্রকল্প তৈরী করতে বলেছেন, কিন্তু কোন খেলার মাঠ দখল করতে বলা হয়নি।  অথচ এই খেলার মাঠ দখল করে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনক্রমেই তা করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে গ্রামবাসীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিকেএসপির নিয়মিত নারী ক্রিকেটার নয়ন তারা বলেন, আমরা গ্রামের মাঠে ছোট বেলা থেকে খেলাধুলা করে বড় হয়েছি। রক্ত থাকতে এই মাঠ বেদখল হতে দেব না।

তিনি আরো বলেন, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পকে আমরা স্বাগত জানাই, তবে সেটা হতে তবে অন্যত্র, খেলার মাঠ দখল করে নয়।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, মাঠটি রক্ষায় দীঘদিন যাবত আন্দোলন সংগ্রাম ও চিঠি চালাচালি করে আসছে স্থানীয়রা। এরআগে চলতি বছরের ১৪ জুলাই ও ১৫ আগষ্ট এই মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরীর প্রতিবাদে মানববন্ধনও করেছিলেন তারা। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন তাদের দাবীর প্রতি কোন কর্ণপাত না করে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরীর প্রক্রিয়া এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button