জাতীয়

আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ হবে: প্রত্যাশা ইইউর

মোহনা অনলাইন

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন সফররত ইইউর শ্রমবিষয়ক প্রতিনিধিরা। তারা আশা করেন দেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ হবে।

এছাড়া, বৈঠকে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ও ইইউর ‘জিএসপি প্লাস’ প্রকল্পে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়।

গুগল নিউজে ফলো করুন Mohona TV গুগল নিউজে ফলো করুন Mohona TV

এদিকে ইইউর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আর্থসামাজিক অধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

ইইউ প্রতিনিধিরা গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব এহছানে এলাহীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তিন ঘণ্টার বৈঠকে ইইউর ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা প্যাম্পালোনি। ঢাকায় ইইউর রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ইইউ প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বললেও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে তারা একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ হবে– এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে ইইউ প্রতিনিধিরা বৈঠকে বলেছেন, এখনও অনেক শ্রমিক কাজে ফেরেননি। এ বিষয়ে তারা একটি সমাধান আশা করেন।’ বৈঠকে শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘তারা মনে করেন, শিশুশ্রম, ট্রেড ইউনিয়ন ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের আরও সুযোগ রয়েছে।’ মতপ্রকাশ ও সভা-সমাবেশের স্বাধীনতার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মাসুদ বিন মোমেন আরও জানান, ইইউতে ‘জিএসপি প্লাস’ সুবিধা কীভাবে পাওয়া যায়, সে বিষয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। তবে শ্রম খাতের সংস্কার-সংক্রান্ত জাতীয় কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে ইইউ প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘শ্রম খাতের উন্নয়নে শুধু আইন সংশোধন নয়, একই সঙ্গে গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী মার্চে এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠক হবে।’

শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব বলেন, ‘শ্রম খাতের উন্নয়নে নেওয়া জাতীয় কর্মপরিকল্পনার ৯টি লক্ষ্যের ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে আইএলও সন্তুষ্ট কিনা, তা জানতে চেয়েছে ইইউ প্রতিনিধি দল। তারা পুরো প্রক্রিয়ায় আইএলওর সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। শ্রমিকদের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখার কথা বলেছেন।’

বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘দেশের রপ্তানির ৮৫ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে। এই খাত যদি জিএসপি প্লাস সুবিধার বাইরে থাকে, তাহলে সেটা হবে অর্থহীন। আমরা বলেছি, আমাদের পোশাকশিল্পের সাফল্যকে শাস্তি দেওয়া যাবে না, বরং উৎসাহিত করতে হবে।’

বাংলাদেশে শ্রম খাতের অগ্রগতি দেখতে গত রোববার ঢাকায় আসে ইইউ প্রতিনিধি দলটি। আজ বৃহস্পতিবার তাদের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গেও গতকাল ইইউ প্রতিনিধিরা আলাদা বৈঠক করেন। সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সার্বিক অবস্থা, জিএসপি সুবিধা, শ্রম আইন ও আইএলওর পর্যবেক্ষণ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। শ্রম আইন এরই মধ্যে সংশোধন হয়েছে। এতে তারা সন্তুষ্ট। তবে আইএলওর মানদণ্ড অনুযায়ী শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন ইইউ প্রতিনিধিরা।’

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ইইউ প্রতিনিধিরা শুধু পোশাকের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে এসে পণ্যে বৈচিত্র্য আনার তাগিদ দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশ-ইইউ উভয়ের সুবিধা হবে।

‘শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে’আর্থসামাজিক অধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে মনে করে ইইউ। এ ক্ষেত্রে আরও উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর) বাস্তবায়ন, মত প্রকাশ, সমাবেশ এবং সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং নাগরিক সমাজের দায়িত্ব পালনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার। ইইউ এ ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের ইউপিআরের সুপারিশ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে উৎসাহিত করে। ইইউর শ্রমবিষয়ক প্রতিনিধি দলের সফর নিয়ে গতকাল তাদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশকে শ্রমবিষয়ক নীতি এবং তা বাস্তবায়নে আইএলওর মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার সুপারিশ করেছে। শ্রম খাতের উন্নয়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা, সম্মিলিতভাবে দর কষাকষি ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণে নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলেছেন তারা।

শ্রম আইনের সংশোধনীতে ইইউ ও আইএলওর উদ্বেগ আংশিক দূর হয়েছে এবং এ নিয়ে প্রতিনিধি দলের উদ্বেগ রয়ে গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাওলা প্যাম্পালোনির বলেছেন, ‘সফরকালে বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগ দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ত্বরান্বিত করতে আমরা বাংলাদেশ সরকার, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ ও ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাব।’

author avatar
Editor Online
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button