পাকিস্তানের সময় আর্থিক অবস্থা বর্তমানের থেকে ভালো ছিল: মির্জা ফখরুল

বিধান চন্দ্র দাস, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 

সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যা যা করা দরকার তাই করে যাচ্ছে কিন্তু জনগণের অধিকার ও স্বার্থ তারা বিবেচনা করছেনা উল্লেখ্য করে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,পাকিস্তানের সময় দেশের আর্থিক দিক আরও ভালো ছিল। তার পরেও যখন পাকিস্তান সরকার আমাদের অধিকা হরণ ও সম্পদ লুণ্ঠন করার কারণে আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লড়াই করেছি ও স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু এখন তার থেকেও খারাপ অবস্থা হয়েছে দেশের।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ি বাস ভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, পাকিস্তানের সময় বলা হতো ২২ পরিবার ছিল কোটিপতি আর এখন বলা হচ্ছে ১ লক্ষ ৯২ হাজারের উপরে কোটিপতি। এমন অবস্থায় গোরিব মানুষের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। বর্তমান ৪২% মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। যে দেশে ৪২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে সে দেশকে কিভাবে উন্নত দেশ ও মধ্যম আয় এবং উন্নয়নশীল দেশ কিভাবে বলা যায়। একারণেই আমরা বর্তমান অবস্থা থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে চলেছি। বাংলাদেশকে ডাস্টবিন থেকে তুলে নিয়ে আসার জন্য ও দেশের গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে মুক্ত সমাজ তৈরি কারার জন্য আমরা কাজ করছি।

বাংলাদেশে কারও কোন নিরাপত্তা নেই উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও দলীয়করণ করা হয়েছে। যেখানে একজন শিক্ষকে ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে শিক্ষকতার চাকুরি নিতে হয়। সেখানে একজন শিক্ষক কি শিক্ষা দিবে। এই সমাজটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে আওয়ামীলীগ।

এছাড়াও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, আওয়ামীলীগ মুক্ত সাংবাদিকতা বহু আগেই ধ্বংস করেছে এবং তারা যে আইন গুলো করেছেন তার মধ্য ডিজিটাল শিকিউরিটি আইন করে সাংবাদিকদের মুক্ত সাংবাদিকতায় সত্য কথা বলতে বাধা তৈরি করেছে। সাংবাদিকদের হত্যা ও নির্যাতন করার ফলে আজকে কেউ সাহস করে সত্য কথা বলতে এবং লিখতে পারছেন না।

মির্জা ফখরুল বলেন, সমাজের মধ্যে একটা সুশীল সমাজ তৈরি করা হয়েছে। যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে ফ্ল্যাট, বাড়ি-গাড়ি, টাকা ও জমি দেওয়া হচ্ছে। আর যারা এসব সুবিধা পায় তারা মনে করে এই ধরণের সরকারই তো ভালো। তাই তারা চুরি চামাড়ি করতে থাকে ও সেইভাবে চলছে। তাদের জবাবদিহিতা করতে হয় না। তাই তাদের এটাই ভালো। এসব জায়গা থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে জনগণকে বেড়িয়ে আসতে হবে।

এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিপত্রে দাম আকাশচুব্বি হয়েছে বলে দলটির এই র্শীষ নেতা বলেন, দ্রব্যমূল্যের দামের কারণে শিক্ষা, স্বাথ্যসহ প্রতিটি ক্ষেতে প্রভাব পড়েছে। মূল্য বৃদ্ধি করে মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করেছে সরকার। মানুষ তাদের জীবন পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এজন্য আমরা গত ২২ আগস্ট থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন সংগ্রাম করছি।

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, যদি নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন হয় তাহলে বিএনপি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমীন সরকারসহ জেলার বিভিন্ন নেতাকর্মী।

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button