পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের, দামও ভালো, ফিরছে সোনালী আঁশের দিন

নীলফামারী প্রতিনিধি : মো: অসীম চৌধুরী

 পাট দিয়ে সূতা, দড়ি, বস্তা, প্যাকিং সরঞ্জাম, ব্যাগ বা থলে, হাতে বাছাই করা আঁশ, পাটজাত কাপড় বহুদিন ধরে তৈরি হয়।এখন সেই সঙ্গে পাটের তৈরি বৈচিত্র্যময় পণ্যের রপ্তানিও বেড়েছে। পাটের তৈরি টব, খেলনা, জুট ডেনিম, জুয়েলারি, ম্যাটস, নারী-পুরুষের জুতা স্যান্ডেল, বাস্কেট, পাটের শাড়ি, পাঞ্জাবি ও পাটের তৈরি গৃহস্থালি নানা সরঞ্জামের বিদেশে চাহিদা তৈরি হয়েছে। প্রধানত আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোয় এই জাতীয় পণ্য রপ্তানি করা হয়। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়িরও একটি বড় বাজার তৈরি হয়েছে এসব পণ্য দিয়ে পার্টিকেল বোর্ড, কম্পোজিট, সেলুলয়েডে ব্যবহার হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এক যুগের রেকর্ড ভেঙ্গে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করে ১১৬.১৪ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।

সারাদেশের ন্যায় নীলফামারী জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে পাট চাষ। জেলাটিতে অনেকে পাট চাষ করেন বংশপরম্পরায়। এর মধ্যে পাটের চাহিদা বেড়েছে, বাড়ছে পাটের দাম। এতে ‘সোনালি আঁশ’-এর আবাদ নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।

জলঢাকা উপজেলা কৃষি কার্যালয় বলছে, এ অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী। গত এক বছরে পাটের উৎপাদন বেড়েছে। তোষা জাতীয় পাট চাষের দিক থেকে নীলফামারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে । গত কয়েক বছরে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে পাট চাষ।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ধুমপাড়া গ্রামের পাটচাষি সত্তরোর্ধ্ব মোকাররম মিয়া বলেন, ‘বংশপরম্পরায় আমরা পাট আবাদ করে আসছি। তা ছাড়া পাট চাষের জন্য এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া জুতসই। পাট চাষ না করলে খাব কী।’

খরচের বিষয়টি তুলে ধরে উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের পাটচাষি হরিদাস বিশ্বাস বলেন, পাট উৎপাদনে মণপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়। বিক্রি করার সময় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার বেশি পাওয়া যায় না। পাটের দাম বাড়ে পাট মৌসুম চলে যাওয়ার পর, তখন কৃষকদের ঘরে পাট থাকে না। নীলফামারীর আবহাওয়া ও মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী।

নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের শাহজাহান আলি বলেন, বীজ ও সারের নিশ্চয়তা পেলে তাঁরা পাঠ চাষে আরও মনোযোগী হবেন। মাঝেমধ্যে এসবের সংকটে পড়তে হয় তাঁদের। এগুলোর সমাধান হওয়া জরুরি।

আরও কয়েকজন পাটচাষির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পাটের বীজ তাঁরা বাজার থেকে কিনে থাকেন। বীজ ও সারের দাম নাগালের মধ্যেই থাকে। তবে মাঝেমধ্যে এসবের সংকটে পড়তে হয় তাঁদের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button