ঢাকা

পুলিশ সদস্য দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ!

আলফাজ সরকার আকাশ,
শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে অসদাচরণের জেরে এক পুলিশ সদস্যকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এই ঘটনা ঘটে।
অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্য মোঃ শাহিনুর রহমান। তিনি শ্রীপুর থানায় সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শ্রীপুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে অসদাচরণের জেরে পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। অবরোধ করার আগে দস্তাদস্তির এক পর্যায়ে পুলিশের ওই সদস্যের পোশাক ছিঁড়ে যায় বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের ভুল বুঝাবুঝির কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন। তবে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি বলে জানান তিনি। এমনকি পুলিশ কোনো অন্যায় কাজ করতে যায়নি, কোনো একটিটির তদন্তের জন্য পুলিশ সেখানে গিয়েছিল বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দেওয়া বর্ণনায় জানা গেছে, ফরিদপুর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে রাইস উদ্দিন সম্প্রতি অপর এক ব্যক্তির কাছে খাস জমি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করেছিলেন। জমি বিক্রির পুরোপুরি টাকা তাকে পরিশোধ করা হয়নি। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য বার বার তারিখ পাল্টানো হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ক্রেতা পুলিশের দ্বারস্থ হন। শুক্রবার বিকেলে এ এস আই শাহিনুর রহমান ও দুজন কনস্টবল রাইস উদ্দিন এর সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ সদস্য রাইস উদ্দিনের বাড়ির সামনের একটি দোকানের পাশে বসে এ প্রসঙ্গে আলাপ করছিলেন। পুলিশ সদস্য জমি বিক্রির স্টাম্প প্রদর্শন করার পর রাইস উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে যান। এর জেরে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের এসআই শাহিনুর রাইস উদ্দিনের উপর চড়াও হন। অপ্রস্তুত অবস্থায় পুলিশের ওই এ এস আইয়ের হাতের আঘাতে রাইস উদ্দিন মুখে আঘাত প্রাপ্ত হন। পরে রাইস উদ্দিনের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী মিলে এস আই কে মারধর করেন। তাকে রাইস উদ্দিনের বাড়িতে একটি কক্ষের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। দেড় ঘণ্টা পর শ্রীপুর থানার ১০-১৫ জন পুলিশ সদস্য এসে অবরুদ্ধ এএসআই শাহিনুর রহমানকে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন মোহনা টেলিভিশন অনলাইনকে জানান, সম্পূর্ণ ঘটনাটি এখনো আমরা স্পষ্ট হতে পারিনি। সেখানে যাই ঘটে থাকুক, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button