যুব সমাজকে রক্ষা করাই আমাদের প্রধান টার্গেট- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বগুড়া প্রতিনিধি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, মাদক বিক্রি করেন এবং সেবন করেন আপনাদের মুখ কখনোই উজ্জ্বল হবে না বরং সমাজের চোখে ঘৃনিত হয়ে থাকবেন। আপনারা মাদক ব্যবসা থেকে ফিরে আসুন। সরকার আপনাদের পাশে আছে। আপনাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে।

মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ লাইন্স মাঠে বগুড়া জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে মন্ত্রী বগুড়া পুলিশ লাইন্সে ‘মুক্তির অমর কাব্য ম্যুরাল’ উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি বক্তৃতা শুরুর পূর্বের করোনায় মৃত পরিবহন মালিকদের পরিবার ও দুস্থ শ্রমিকদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং মাদক ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনে প্রায় ৫০ জন পুরুষকে ভ্যান গাড়ি এবং ১৫ জন নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান এমপি আরো বলেন, আমাদের সর্বপ্রথম টার্গেট একটাই। যুব সমাজকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। যে যুব সমাজকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছি আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে সবাইকে সুশিক্ষিত করবো। সবাইকে আমরা সেই জায়গাটিতে নিয়ে যাবো যাতে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ পাড়ি দিয়ে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে পারে।

আমরা সেই টার্গেট নিয়েই কাজ করছি। আমাদের এই প্রজন্ম যদি পথ হারিয়ে ফেলে তাহলে দেশের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এখন সব ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন থাকবেন ততদিন বাংলাদেশ আলোকিত থাকবে। আর শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে এবং মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ৬০ হাজার মাদক মামলা রয়েছে। আমাদের পুলিশ প্রকাশ্যে এবং গোপনে মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আমি তাদের এই কার্যক্রমগুলোকে সাধুবাদ জানাই। মাদক নিয়ন্ত্রণ একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। পারিবারিক শাসন ব্যবস্থা শক্ত করতে হবে। আপনাদের সন্তান কাদের সাথে মেশে কি করে সেই খবর অভিভাবকেদের নিতে হবে। রাতে বাসায় ফিরলে তাদের কারণ জিজ্ঞেস করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান আরো বলেন, বাংলাদেশে এখন ৬৫ ভাগ মানুষ কর্মক্ষম। আমরা এটা নিয়ে গর্ব করতে পারি। কারণ পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে আমাদের দেশের পজিশন অনেক অনেক দৃঢ়। আমি সেই জায়গায় বলতে পারি সবকিছুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার ক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। সে জন্যই আমরা চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান আমাদের দেশ থেকে মাদক যেন আমরা দূর করতে পারি। আমাদের দেশে কোন মাদক আমরা তৈরি করতে দিই না এবং হয়ওনা।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মাদক আসছে। আমরা সেগুলোই লক্ষ্য করছি। আমরা ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছি। ভারতের সীমান্তের পাশে যেসব ফেন্সিডিলের কারখানা সেগুলো তারা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে কিছু বন্ধ করেছে।

আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার। সবচেয়ে ভয়ংকর ড্রাগ যেখান থেকে আসে। আমরা ইয়াবা দমনের জন্য কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আপনারা জানেন মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ফেলে আমাদের দেশে আসতে বাধ্য করেছে। মিয়ানমার সরকার এবং সেনাবাহিনী মিলে রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য এসেছে। আমাদের মননীয় প্রধানমন্ত্রী সে সময় সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিলেন।

রোহিঙ্গারা নির্বিঘ্নে আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এমন মানব দৃষ্টান্তের জন্য তাকে মাদার অব হিউম্যানেটি উপধি দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরেই দেশকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ আর অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে চায় না। বঙ্গবন্ধু শাহাদৎ বরণের পর বাংলাদেশ পথ হারিয়েছিলো। দীর্ঘ বছর পর তার কন্যা দেশের হালধরে আবারো দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করছেন। যতদিন প্রধানমন্ত্রী জীবিত থাকবেন ততদিন বাংলাদেশ আলোকিত থাকবে। মন্ত্রী এসময় প্রধানমন্ত্রী শতায়ু কামনা করেছেন।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান ও বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো: জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়ন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্য সচিব ও পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদাৎ আলম ঝুনু। সমাবেশে রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশের উর্ধবতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিসহ সকল স্তরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button