কালিয়াকৈরে সরকারী চিকিৎসকদের ছত্র-ছায়ায় অবৈধ ক্লিনিকের ছড়াছড়ি

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: আলহাজ হোসেন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সরকারি চিকিৎসকদের ছত্র-ছায়ায় অবৈধ ক্লিনিকের ছড়াছড়ি। এসব ঠেকাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় রোববার বিকেলে এসব ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় মাত্র একটি ক্লিনিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন ক্লিনিক, রোগী ও তাদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর, মৌচাক, ফুলবাড়ীয়া, কালিয়াকৈর বাজার, সাহেব বাজার, শ্রীফলতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অতি সন্নিকটে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চলছে অবৈধ ক্লিনিক।

সরকারি চিকিৎসকদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ ক্লিনিক গড়ে উঠায় রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ ক্লিনিক মালিকরা। মুল্য তালিকার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে ৭২ ঘন্টার মধ্যে অবৈধ হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা কৌশলে অবৈধ ক্লিনিকগুলোকে কাগজপত্র ঠিকঠাক করতে কয়েকদিন সময় বেঁধে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে অফিস ফাঁকি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট ডাঃ কুহু মুৎসুদ্দী স্থানীয় কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় দেওয়ান ডিজিটাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে যান। সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে সিজারের নিয়ম থাকলেও তিনি ওই হাসপাতালে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে সিজার করেন। এসময় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে সেখান থেকে চলে যান।

খবর পেয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদের নেতৃত্বে ওই হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জামাল হোসেনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযান চালিয়ে কাগজপত্র অবৈধসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ওই হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট ডাঃ কুহু মুৎসুদ্দী জানান, অন্য একটি কাজে এসেছিলাম। এখন আবার হাসপাতালে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ বেলাল উদ্দিন জানান, ওই চিকিৎসক ছুটিতে থাকতে পারে।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ওই হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট উধর্ব্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button