আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়া নারীর মস্তিষ্ক থেকে বের হলো জীবন্ত গোলকৃমি

মোহনা অনলাইন

অস্ট্রেলিয়ার ৬৪ বছর বয়সী এক নারীর ব্রেনের ভেতর থেকে জীবন্ত পরজীবী একটি কৃমি বের করা হয়েছে। বিশ্ব এবং মানব ইতিহাসে যা এমন প্রথম ঘটনা। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৪ বছরের ওই নারী নিউ সাউথ ওয়েলসের বাসিন্দা। তিনি ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস প্রথমবার স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হন ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, শুকনো কাশি, জ্বর এবং রাতের বেলায় ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো উপসর্গ নিয়ে। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁর আসল রোগ নির্ণয় করতে পারেননি।

বছরখানেকের মধ্যে তাঁর এসব উপসর্গ আরও তীব্র হয় এবং তিনি হতাশা ও ভুলে যাওয়ার মতো উপসর্গে ভুগতে থাকেন। পরে স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে ক্যানবেরা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পরে তাঁর মস্তিষ্কের এমআরআই করার পর দেখা যায় সেখানে কিছু অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার জন্য সার্জারি প্রয়োজন।

গুগল নিউজে ফলো করুন Mohona TV গুগল নিউজে ফলো করুন Mohona TV

কিন্তু বিষয়টি সহজ ছিল না, কারণ সেখানে আসলে কী হচ্ছে তা নিউরোসার্জনদের জানা ছিল না। এ বিষয়ে ডা. সেনানায়েকে বলেন, ‘নিউরোসার্জনেরা নিশ্চয় এমনটা ভেবে অস্ত্রোপচার করেননি যে, তাঁরা সেখানে একটি জীবন্ত কৃমি খুঁজে পাবেন। সাধারণত নিউরোসার্জনেরা মস্তিষ্কের সংক্রমণ নিয়ে কাজ করেন, কিন্তু এই প্রথম বোধ হয় এমন কোনো ঘটনা ঘটল। কেউই এমনটা প্রত্যাশা করেননি।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘সাধারণত এই কৃমির লার্ভা ছোট স্থন্যপায়ী ও শাবকবাহী জীবে পাওয়া যায়। এসব প্রাণী আবার খেয়ে থাকে অজগর সাপ। এর মাধ্যমে এই কৃমি এই সাপের মধ্যে পাওয়া যায়।’

এই ঘাসে আবার অজগর সাপ বাস করে থাকে। খুব সম্ভবত ওই নারী যেখান থেকে ঘাস নিয়েছিলেন সেখানে অজগর সাপ তার মুখ থেকে ওই পরজীবী কৃমির ডিম বের করেছিল।

বর্তমানে ৬৪ বছর বয়সী ওই নারী প্রথম অসুস্থ হন ২০২১ সালে। ওই শাক বা ঘাস খাওয়ার তিন সপ্তাহ পর তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে।

প্রাথমিক অবস্থায় পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। এর আগে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগেন তিনি। খুব সম্ভবত ওই কৃমির লার্ভা তার শরীরের অন্যান্য অঙ্গে যাওয়ার কারণে তিনি এমন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। যদিও তার ফুসফুসে বায়োপসি করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো পরজীবী ওই সময় পাওয়া যায়নি।

২০২২ সালের দিকে ওই নারী স্মৃতিভ্রম এবং বিষন্নতা রোগে ভুগতে শুরু করেন। তখন তার ব্রেনে এমআরআই করা হয়। এতে দেখা যায় তার ব্রেনে একটি ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তখন চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন তার ব্রেনে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। কিন্তু স্বপ্নেও তারা ভাবেননি অস্ত্রেপচারের সময় ওই নারীর ব্রেনের ভেতর জীবন্ত পরজীবী পাবেন তারা। সূত্র: আল জাজিরা

author avatar
Editor Online
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button