পচা ইলিশ লবন দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে নোনা ইলিশে

রফিকুল ইসলাম বাবু, চাঁদপুর প্রতিনিধি

মা ইলিশ প্রজনন রক্ষা নিষেধাজ্ঞার পরে দক্ষিঞ্চালের উপকূলীয় এলাকা থেকে চাঁদপুরে আসতে শুরু করেছে পচা ইলিশ। আর এসব ইলিশ দেশের উত্তরাঞ্চলের এক শ্রেনীর ব্যবসায়ী ক্রয় করে প্রক্রিয়াজাত শুরু করেছে। ৬ মাস সংরক্ষণের পর এসব নোনা ইলিশ বিক্রি শুরু করা হবে। তবে এসব ইলিশ খাওয়া থেকে বিরত থাকাই উত্তম বলে মতামত দিয়েছেন চিকিৎসক।

নদীতে যখন ইলিশ থাকে না, তখন বিক্রি করা হয় এই নরম পচা লোনা ইলিশ। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় এই মাছের চাহিদা ভালো থাকায় বেশ লাভবানও হচ্ছে কতিপয় কিছু ব্যবসায়ীরা। দেশের ৫টি অভয়াশ্রমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে উপকূলীয় এলাকার জেলেরা ইলিশ আহরণ করে মজুদ করে রাখে। অভিযান শেষে এসব পচা ইলিশ বিক্রির জন্য ট্রলার এবং ট্রাকে করে নোয়াখালীর হাতিয়া ও ভোলা অঞ্চল থেকে চাঁদপুর মাছঘাটে নিয়ে আসছে। ইলিশগুলো বিভিন্ন আড়তের সামনে স্তুপ করে হাকডাক দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিমণ পচা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

নোংরা পরিবেশে পচা ইলিশগুলো উত্তরাঞ্চল থেকে আসা মৌসুমী ব্যবসায়ীরা স্থানীয় শতাধিক নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মাধ্যমে কেটে লবন দিয়ে নোনা ইলিশে পরিণত করে স্তপ করে সংরক্ষণ করছে। বরফ ও মাছের চাপ এবং পরিবহনের সময় মাছ নরম পচা হয়ে যায়। কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে নরম লবণ দিয়ে ইলিশ সংরক্ষণ করা হয়। প্রথমেই ইলিশ মাছের পেট থেকে ডিম বের করে মাছটি ফালি ফালি করে কেটে ফেলে। এরপর মাছে লবণ দিয়ে স্তূপ করে ৬/৭ দিন রাখা হয় আবার কিছু পচা ইলিশ ড্রাম বর্তি করা রাখা হচ্ছে। এসব ইলিশের ডিমগুলো আলাদা করে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

একজন নারী শ্রমিক বলেন, পচা ইলিশের কাজ করতে অনেক কষ্ট। কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় হাত কেটে যায়। মালিক যে পরিমান টাকা দেয় তা দিয়ে সংসার চলে না। তারপরে কোন কাজ না থাকায় সংসার চালানোর জন্য কাজ করতে হয়।

অভিযানের সময় জেলেদের মজুদ করে রাখা ইলিশগুলো চাঁদপুরে ঘাটে আনা হচ্ছে। এগুলো পচা ও দুই নম্বর ইলিশ। প্রতিবছরই আমরা এসব ইলিশ চাঁদপুরে এসে ক্রয় করি। পরে কেটে লবন দিয়ে নোনা ইলিশে পরিণত করি। ৬ মাস পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হবে।

 

পচা ইলিশ ক্রয়কারী দুইজন মৌসুমী ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে যে পচা ইলিশগুলো আসছে এগুলো অভিযানের সময় জেলেদের মজুদ করে রাখা। ময়মনসিংহ থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এসব পচা গান্ধা মাছগুলো ক্রয় করে। এসব মাছ চাঁদপুরের মানুষ খায়না এবং খাওয়া ঠিকও না।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, এসব পচা নোনা ইলিশ কোনভাবেই খাওয়া ঠিক হবে না। কারণ এসব পচা ইলিশ খেলে পেটের পীড়াসহ নানা ধরণের রোগ সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button