জাতীয়

বাণিজ্য মেলায় কোনটা আসল হাজীর বিরিয়ানি?

মোহনা অনলাইন

প্রতি বছর আয়োজিত বাণিজ্য মেলার একটা অন্যতম অংশ ফুড কোর্ট। আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য হরেক রকম খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে স্টলগুলো। তবে এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত হচ্ছে ‘হাজীর বিরিয়ানি’।

মেলায় ‘হাজির বিরিয়ানি’ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন দর্শনার্থীরা। কারণ মেলায় হাজির বিরিয়ানির ছড়াছড়ি! প্রতি বছরই বাণিজ্য মেলায় বেশ কয়েকটি হাজীর বিরিয়ানি নামে স্টল বসানো হয়। সবাই দাবি করে থাকেন, তারটাই আসল পুরান ঢাকার হাজী বিরিয়ানি। কিন্তু এতোগুলো হাজীর বিরিয়ানির ভিড়ে আসল হাজীর বিরিয়ানি কোনটা?

গুগল নিউজে ফলো করুন Mohona TV গুগল নিউজে ফলো করুন Mohona TV

এমনকি মেলা প্রাঙ্গণের বাইরে বিআরটিসি (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন) বাস কাউন্টার সংলগ্ন স্থানেও দোকানের নাম দেয়া হয়েছে ‘হাজির বিরিয়ানি’। স্টলগুলোতে মূলত কাচ্চি বিরিয়ানি, মোরগ পোলাও তেহারি বিক্রি করা হয়। এছাড়াও চিকেন আইটেম, নান রুটি, গ্রিল, পরোটা, ফুচকা, চটপটি ইত্যাদি খাবারও বিক্রি হয়ে থাকে। সব দোকানেই গরুর কাচ্চি বিরিয়ানি ২৫০ টাকা, খাসির কাচ্চি ৩০০ টাকা। চিকেন বিরিয়ানিও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

মূলত এতো এতো হাজির বিরিয়ানির ভিড়ে আসল হাজির বিরিয়ানি কোনটা তা নিয়ে প্রশ্ন  অনেকের। পাশাপাশি অনেকের মনে এ প্রশ্নও জাগছে:  দেশে এত নাম থাকতে কেন বাণিজ্য মেলায় থাকা এতগুলো খাবারের দোকান নিজেদেরকে হাজির বিরিয়ানি হিসেবে দাবি করছে।

মেলায় আগত এক দর্শনার্থী খাবারের দোকানগুলো যেদিকে সেখানে বেশির ভাগ খাবারের দোকানই নিজেদের হাজির বিরিয়ানি হিসেবে দাবি করছে। আমরা বুঝতে পারছি না, এর কোনটা আসল। ওয়েটারদের জিজ্ঞেস করলে বলছে তাদেরটাই আসল। তাছাড়া পুরান ঢাকার যে হাজির বিরিয়ানি রয়েছে, তার ধারেকাছেও নেই — এসব হাজির বিরিয়ানি নামধারী খাবারের দোকানের বিরিয়ানি।

মেলায় আগত ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নাজিরাবাজারের হাজীর বিরিয়ানি যারা খেয়েছে তারা সবাই জানে সে বিরিয়ানির স্বাদ কেমন। এখানকার কোনো দোকানই আসল হাজীর বিরিয়ানি না।’ এরা শুধু নামের জন্যই হাজী বিরিয়ানি দিয়েছে। আসল বিরিয়ানির সাথে এ বিরিয়ানির কোনো মিল নেই।

এসব ‘হাজির বিরিয়ানি’গুলোর খাবারের মানের গুমর ফাঁস হয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযানেও। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) খাবারের মান সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মেলায় থাকা ‘হাজির বিরিয়ানি অ্যান্ড কাবাব’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে সংস্থাটি।
মেলার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে মোটামুটি অন্যান্য বছরের থেকে এবারের মেলা আয়োজনের ব্যবস্থাপনার উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন দর্শনার্থীরা। তবে অসঙ্গতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চোখ আটকাচ্ছে এসব তথাকথিত ‘হাজির বিরিয়ানি’ নামধারী দোকানগুলোতে। এ বিষয়ে মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষকে নজর দেয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন তারা।
  
author avatar
Online Editor SEO
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button