
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নয়াদিল্লির পরবর্তী লক্ষ্য পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। তিনি বলেন, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীর অঞ্চল অবশ্যই ভারতের অংশ। ৬ বছর আগে সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মিরে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় কতৃত্ব জারি করেছে ভারত।
লন্ডনের চ্যাথাম হাউস থিঙ্ক ট্যাঙ্কে এক আলোচনায় পাকিস্তানি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই সাংবাদিক কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেন যে, ভারত ‘অবৈধভাবে কাশ্মীর দখল’ করেছে এবং সেখানে ‘সত্তর লক্ষ কাশ্মীরিকে নিয়ন্ত্রণ করতে দশ লক্ষ সেনা মোতায়েন করেছে’। পাশাপাশি, তিনি জানতে চান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে কাশ্মীর সমস্যা সমাধান করবেন।
এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় জানান, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে ভারত ইতোমধ্যেই যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরে, আমরা বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান করতে পেরেছি। ৩৭০ ধারা বিলোপ একটি বড় পদক্ষেপ ছিল। এরপর কাশ্মীরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। আর সর্বশেষ ধাপে আমরা উচ্চ ভোটদানের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন যে দিকটির জন্য অপেক্ষা করছি, সেটি হল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পুনরুদ্ধার। একবার এটি হয়ে গেলে, কাশ্মীর সমস্যার পুরো সমাধান হয়ে যাবে।’
১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের সময় থেকে কাশ্মির সংকটের শুরু। দুই রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণের সময় জম্মু-কাশ্মির কোন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হবে— জম্মু-কাশ্মিরের শেষ রাজা হরি সিংয়ের কাছে তা জানতে চেয়েছিলেন ব্রিটেনের শাসকরা। কিন্তু বিভিন্ন দিক বিবেচনায় হরি সিং জানিয়েছিলেন, জম্মু-কাশ্মির স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে থাকবে; কোনো দেশের অংশ হবে না। কিন্তু ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা লাভের পর জম্মু-কাশ্মির দখলে অভিযান শুরু করে পাকিস্তান এবং কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরের অনতিদূরে পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মিরের রাজা হরি সিং জম্মু-কাশ্মিরের ভারতে অন্তর্ভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন।
হরি সিংয়ের স্বাক্ষরের পর অভিযানে নামে ভারতের সেনাবাহিনী এবং পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। সেই থেকে জম্মু-কাশ্মিরের মোট ভূখন্ডের ৪৩ শতাংশ ভারতের এবং ৩৭ শতাংশ পাকিস্তানের দখলে রয়েছে। বাকি ২০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চীনের হাতে। চীনের অধিকৃত ওই অঞ্চলটি সিয়াচেন নামে পরিচিত।