
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দগ্ধ অন্তত ৬৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে কুয়ালালামপুরের সেলানগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কুয়ালালামপুরের কাছের সেলানগর রাজ্যের অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তারা বলেছেন, গ্যাস পাইপলাইনের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় লিকেজ থেকে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই আগুনের লেলিহান শিখা কয়েক কিলোমিটার দূরে থেকেও দেখা গেছে।
এক বিবৃতিতে দেশটির অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তারা বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইট মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের। অগ্নিকাণ্ডের পর ওই পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সকালে ছড়িয়ে পড়া আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দমকল বিভাগের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পর কয়েক ঘণ্টার চেষ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে দুপুরের দিকে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১১২ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্থানীয় দৈনিক দ্য স্টারকে জানিয়েছেন দমকল বিভাগের একজন কর্মকর্তা। সেলানগর পুলিশের উপপ্রধান মোহাম্মদ জাইনি আবু হাসান স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম অ্যাস্ত্র আওয়ানিকে বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডে আহত কমপক্ষে ৬০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে অর্ধ-শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেশটির দমকল বিভাগ জানিয়েছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ছুটি কাটাচ্ছেন নাগরিকরা। এর মাঝে সেলানগরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের স্থান থেকে ১০০ মিটার দূরে নিজাম মোহাম্মদ আসনিজাম (৪৯) নামের এক ব্যক্তির বাড়ি। গ্যাস পাইপলাইন থেকে আগুন বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি পরিবার নিয়ে গাড়িতে করে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘‘আমি ঘুম থেকে জেগে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়েছি। এ সময় ওই এলাকায় অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছিল। আমি অগ্নিকাণ্ডের সময় এই ধরনের শব্দ কখনও শুনতে পাইনি। ভয়ঙ্কর শব্দ ছিল। মনে হচ্ছিল, বিমানের ইঞ্জিন আমার পাশেই আছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সেলানগরের মুখ্যমন্ত্রী আমিরুদ্দিন শাহরি সেখানকার একটি মসজিদে অস্থায়ী ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে লোকজনকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।