
চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ রুটে চলাচলকারী একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন বিজয় এক্সপ্রেসের রুট বর্ধিত করা হচ্ছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর পর্যন্ত চলাচল করবে। এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেন হতে যাচ্ছে।
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন টাইম টেবিল-৫৩ চালু হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে অন্যান্য রুটের মতো এ ট্রেনটিতেও কিছু পরিবর্তন আসছে। রেল সূত্র জানিয়েছে, সকাল ৯ টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে ৪ টা ২৫ মিনিটে ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে পৌঁছাবে। এ স্টেশনে ৫ মিনিটের যাত্রাবিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৬ টা ১০ মিনিটে পৌঁছাবে জামালপুর রেলস্টেশনে।
অন্যদিকে জামালপুর রেলস্টেশন থেকে রাত ৮ টা ১০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে পরদিন সকালে ৫ টায়। ট্রেনটি উভয়পথে যাত্রাবিরতি দেবে ভাটিয়ারী, ফেনী, লাকসাম, কুমিল্লা, আখাউড়া, ভৈরব বাজার, সচারচর, কিশোরগঞ্জ, আঠারবাড়ি, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ ও পিয়রপুর।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বিজয় এক্সপ্রেস জামালপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন। এটি ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে উদ্বোধন করা হয়। শোভন চেয়ার, এসি চেয়ার, এসি কেবিন ও নন এসি কেবিন সম্বলিত ট্রেনের সর্বনিম্ন শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ এসি কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৭৮ টাকা।
স্থানীয়রা জানান, ময়মনসিংহ বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে জামালপুর জেলা। শিল্প-বাণিজ্য, কৃষি বিপণনসহ নানা ক্ষেত্রে দেশের অন্য যেকোনো জেলার চাইতে কোনো অংশেই কম নয়। প্রায় ১০ বছর ধরে আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ময়মনসিংহের পরিবর্তে জামালপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার দাবি করে আসছিলেন এই এলাকার লোকজন। সম্প্রতি বিজয় এক্সপ্রেসের স্টারটিং পয়েন্ট জামালপুর রেলওয়ে জংশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় খুশির জোয়ার বইতে শুরু করে জেলাবাসীর মাঝে। এমন খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রেলওয়ে বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্ট করছেন অনেকে।
এ ট্রেন জামালপুরে আনতে উদ্যোগ নেওয়া আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিজয়ের মাসে বিজয় এক্সপ্রেস জামালপুরে আসছে। এটা জামালপুরবাসীর বিজয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা এবং রেলমন্ত্রী ও মহাপরিচালককে ধন্যবাদ।