নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি
নেত্রকোণা প্রতিনিধি: মলয় রঞ্জন সরকার

নেত্রকোণার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে । জেলার সব কয়টি নদ–নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এতে জেলার দশ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে ৬২টি ইউনিয়নে বানের পানি ঢুকে পড়েছে । পানিবন্দি হয়ে আছে প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো–খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ বানবাসির মানুষের মাঝে নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরন করা হলেও প্রশাসনের এই সহায়তা অনেকের কাছেই পৌছেনি।
জেলার হাওর উপজেলা খালিয়াজুরীতে বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার ,ত্রান বিতরন ও চিকিৎসা সেবা দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে কাজ করছেন সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে বন্যার পানিতে নেত্রকোণা–কলমাকান্দা.নেত্রকোনা–মোহনগঞ্জের রেলপথসহ জেলার অভ্যন্তরিন সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে । পানিবন্দি মানুষ যাতায়ত করছেন নৌকা ও ভেলায় চেপে।
বন্যায় জেলার সব গ্রামীণ রাস্থা প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।অসংখ্য পুকুর পানিতে তলিয়ে ভেসে গেছে মাছ। এপর্যন্ত বন্যাদূর্গত মানুষদের জন্য ৩২৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাতে প্রায় ১লাখ ৫ হাজার ৯৩৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলে তা অপ্রতুল। আবার এখন নাগাদ কোন শিশু খাদ্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দেয়া হয়নি। এদিকে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা বানভাসি অনেকেই প্রশাসন থেকে ত্রান সহায়তা না পাওয়ায় অভিযোগ করেছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে পানি বন্দী অনেকেই যারা আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারেনি তারা তাদের শিশু ও গবাদি পশু নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কাছাকাছি কোন আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন আত্বীয় বাড়িতে বা উচু কোন স্থানে। আবার অনেকেই তাদের গবাদি পশু রেখেছেন সড়কের উপর নির্মিত ব্রীজে।
জেলা প্রশাসক বলেন নেত্রকোনার পানি বন্দী কোন মানুষ যেন কষ্টে না থাকেন সেজন্য প্রশাসন কাজ করছেন। এরই মধ্যে বিতরণের জন্য ১শ মেঃ টন চাল, ২০ লাখ টাকা ও ৫ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। বন্যা সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায় ,আগামী ২৪ঘন্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সেক্ষেত্রে নদ–নদীর পানি বেড়ে যাবে । ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।