কীভাবে বুঝবেন থাইরয়েড সমস্যা?
নারীর শারীরিক–মানসিক সুস্থতার সাথে থাইরয়েডের সম্পর্ক আছে। অকারণে খিটখিটে মেজাজ, বিষন্নতা, আবেগপ্রবণ আচরণ . মুটিয়ে যাওয়া, ত্বক খসখসে বা শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পড়া, হাত–পা ফাটার মতো বিরক্তিকর সমস্যা থেকে ধরা পড়তে পারে থাইরয়েডের সমস্যা।
এক সময়ের বিরল রোগ থাইরয়েড এখন প্রায় ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে এ রোগ বাড়ছে। প্রতি আটজন নারীর মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে থাইরয়েডের আক্রান্ত হচে্ছ । নারী-পুরুষ এমনকি শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা যেতে পারে ।
শুরুতেই শরীরে নানা উপসর্গ দেখা যায়, যেমন: ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, অতিরিক্ত গরম লাগা, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি। নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক , এমনকি বন্ধ হয়েও যেতে পারে।
থাইরয়েড হরমোনের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব নারীর জীবনে সন্তান ধারণ বিষয়ে। বন্ধ্যাত্ব, বারবার গর্ভপাত, গর্ভে সন্তানের মৃত্যু, গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে সমস্যা, সময়ের আগেই সন্তান প্রসব, গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, ইত্যাদি সমস্যা নারীর জীবনকে জটিল করে তোলে ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলেন, নারীদের সন্তান নেওয়ার পূর্বে একবার থাইরয়েড পরীক্ষা করে নেয়া উচিত।থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে গর্ভকালীন অবস্হায় প্রতি ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পরপর পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের মাত্রা বারবার ঠিক করে নিতে হবে। শুধু রোগ নয়, থাইরয়েডের নানা চিকিৎসাও শিশুর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সন্তান ধারণ ও প্রসবের সময় থাইরয়েডের সমস্যা যেমন অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল করে তুলে, তেমনি সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরও দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।
সন্তান জন্মের পরবর্তী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে যেকোনো সময় দেখা দিতে পারেপোস্ট পারটাম থাইরয়েডাইটিস। ছোট্ট বাচ্চা থাকাকালীন রেডিওআয়োডিন অ্যাবলেশন জাতীয় থেরাপি একেবারেই নিষেধ। মায়ের থাইরয়েড সমস্যা থাকলে ভূমিষ্ঠ শিশুরও থাইরয়েড পরীক্ষা করার দরকার হয়।